মোঃ আরাফাত তালুকদার জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখলী।পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগে হানা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই অভিযানে ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আব্দুস সোবাহানের বিরুদ্ধে জাল-জালিয়াতি করে ২০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। মঙ্গলবার দুপুরে পটুয়াখালী জেলা দুদক কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. সাইদুর রহমান অপুর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম এই ছদ্মবেশী এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালায়।দুদক সূত্রে জানা গেছে, সেবাগ্রহীতার ছদ্মবেশে তথ্য সংগ্রহ এবং অফিসের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এনফোর্সমেন্ট টিম। এতে দেখা যায়, ভুয়া স্বাক্ষর ও জালিয়াতির মাধ্যমে এক ব্যক্তির জমির রেকর্ড সংশোধন করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে নগদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মোট ২০ লাখ টাকা ঘুষ নেন কর্মকর্তা আব্দুস সোবাহান। প্রাথমিক অনুসন্ধানেই এই জালিয়াতি ও ঘুষ বাণিজ্যের স্পষ্ট প্রমাণ পান দুদক কর্মকর্তারা।সম্প্রতি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘুষ কেলেঙ্কারির খবর ছড়িয়ে পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত আব্দুস সোবাহানকে সাময়িক বরখাস্ত করে। অভিযান চলাকালে ভূমি কার্যালয়ে সাধারণ মানুষের সেবার তালিকা বা ‘সিটিজেন চার্টার’ টাঙানো না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে দুদক টিম। সাধারণ গ্রাহকদের সুবিধার্থে অবিলম্বে দৃশ্যমান স্থানে সিটিজেন চার্টার প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযান শেষে দুদকের তদন্ত দল জানায়, সংগৃহীত সব তথ্য-উপাত্ত ও রেকর্ডপত্র গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে শিগগিরই কমিশন বরাবর একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।বিষয়টি নিশ্চিত করে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান জানান, দুদকের একটি প্রতিনিধি দল এসে তদন্ত সম্পন্ন করেছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিষয়ে থাকা সমস্ত দাপ্তরিক তথ্য দুদককে সরবরাহ করা হয়েছে। এদিকে ঘুষ কাণ্ডে নাম আসার পর থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্ত আব্দুস সোবাহান। এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।





মন্তব্য